শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে হাইকোর্টে যাবেন শিক্ষকরা

মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। একইসঙ্গে সংক্রমণ এড়াতে প্রথমে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) এরপরে জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু এদিকে প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে সড়কে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল এন্ড কলেজ ঐক্য পরিষদ।

একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল এন্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান এম ইকবাল বাহার চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বন্ধ থাকা কিন্ডারগার্টেনগুলো খুলতে আল্টিমেটামও দিয়েছে সংগঠনটি। বলা হয়েছে, আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়া না হলে হাইকোর্টে যাবেন তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য শিশু পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে। কওমি মাদ্রসা খুলে দেয়া হয়েছে। ইংরেজি মাধ্যমের ‘ও’ লেভেল, ‘এ’ লেভেল পরীক্ষার অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আমাদের শিক্ষক সমাজকে বেকার করার যড়যন্ত্রে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দেয়ার জন্য সর্বোপরি এই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করার জন্য, আমাদের শিক্ষার্থীদের ধ্বংস করার জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষকরা আজ মানবেতর জীবন যাপন করছে। অথচ ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে আর কোনো সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধন, অনশন বা কোনো কর্মসূচি নয়, এইসব করা মানে জাতিকে ধোঁকা দেয়া। এইসব অনেক করলাম, কোনো লাভ হয়নি। তাই বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল এন্ড কলেজ ঐক্য পরিষদ সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইনের আশ্রয় নেয়ার।

হাইকোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, যদি আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়া না হয় তাহলে যত ভয়-ভীতি আসুক না কেন বাংলাদেশের কিন্ডারগার্টেন তথা ব্যক্তি মালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়ার জন্য আমি বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট করবো। আমার সঙ্গে বাংলাদেশের ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেন ও ১০ লাখ শিক্ষক রয়েছেন। তাদের সম্মতি নিয়েই আমরা এগিয়ে যাবো।